
জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউএইচএফপিওর অনিয়মিত উপস্থিতি তদারকি, বায়োমেট্রিক ও সেবায় অকার্যকারিতা
মাহমুদুর রহমান জুয়েল
স্টাফ রিপোর্টার
জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার (ইউএইচএফপিও) অনিয়মিত উপস্থিতি ও বায়োমেট্রিক আপডেট না থাকাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার স্বচ্ছতা ও তদারকি কার্যক্রম নিয়ে। স্থানীয় সূত্র বলছে, কর্মকর্তা মাসে মাত্র ৬ থেকে ৮ দিন অফিসে আসেন। এতে পরিবার পরিকল্পনা, টিকাদান, রেজিস্ট্রেশন ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে।
পৌরসভার ১ ও ৮ নং ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে নিয়মিত না পাওয়ায় সেবা নিতে গিয়ে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন।
১০মাস বায়োমেট্রিক অনুপস্থিত
সরেজমিন তথ্য অনুযায়ী, ইউএইচএফপিও গত ১০ মাসে একবারও ডিজিটাল বায়োমেট্রিক হাজিরা আপডেট করেননি। স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, বায়োমেট্রিক ছাড়া কর্মকর্তার উপস্থিতি যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং তদারকি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সিভিল সার্জনের বক্তব্য অসামঞ্জস্য
অনুপস্থিতির বিষয়ে শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন প্রথমে জানান
তার সাথে আমার কথা হয়েছে, তিনি সকালে অফিসে এসেছেন।
পরে তাকে জানানো হলে যে কর্মকর্তা সেদিন অফিসে ছিলেন না, তিনি বলেন
তিনি নাওডোবা এলাকায় ফিল্ডেকাজে আছেন।
বায়োমেট্রিক বিষয়ে সিভিল সার্জনের মন্তব্য
নিয়ম আছে আপডেট করার। করা হয়নি। তবে প্রতিদিন ফোনেতার সঙ্গে কথা হয়।অফিসে আসছেন কি না জানতে চাই।
এই বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে আরও প্রশ্ন ওঠে উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক রেকর্ড না থাকলে কেবল ফোনে কথা বলেই কীভাবে উপস্থিতি নিশ্চিত হয়?
বক্তব্যের সাথে লোকেশন মিলছে না
ইউএইচএফপিও দাবি করেন,
আমি নাওডোবা এলাকায় ফিল্ডে কাজ করছি।
তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, ওই সময় তার ফোনের লোকেশন নরসিংদী জেলায় দেখাচ্ছিল। এ তথ্য কর্মকর্তার বাস্তব অবস্থান নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি করেছে।
স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিয়মিত উপস্থিতি না থাকলে মাঠ পর্যায়ের টিকাদান, পরিবার পরিকল্পনা ও জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম ঝুঁকিতে পড়ে।
স্থানীয়দের দাবি
ডিজিটাল বায়োমেট্রিক যাচাই,
মাঠ পর্যায়ের বাস্তব কার্যক্রম পরীক্ষা,
কর্মকর্তার নিয়মিত অবস্থান নিশ্চিত করা,এসব বিষয়ে দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নিতে হবে।

