
থ্রি-হুইলারের দাপটে ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক, বাড়ছে দুর্ঘটনা ও পঙ্গুত্ব
ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বাসসেবা বাড়ানোর দাবি।
আবদুল্লাহ আল বিন জুবায়ের, কুষ্টিয়া
: অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন ধরনের থ্রি-হুইলার মানুষের যাতায়াতকে যেমন সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করেছে, তেমনি এসব যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল সড়ক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি বাড়ছে আহত ও স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্বের শিকার মানুষের সংখ্যা।
বিশেষ করে সড়ক ও মহাসড়কে থ্রি-হুইলারের অবাধ চলাচল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। আইন অনুযায়ী জাতীয় মহাসড়কের নির্দিষ্ট অংশে ধীরগতির থ্রি-হুইলার চলাচলে বিধিনিষেধ থাকলেও বাস্তব চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। মহাসড়কে বাস, ট্রাক ও অন্যান্য দ্রুতগতির যানবাহনের পাশাপাশি অবাধে চলছে ইজিবাইক ও অটোরিকশা।
ফলে তৈরি হচ্ছে যানজট, বাড়ছে ওভারটেকিংয়ের ঝুঁকি এবং ছোট-বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য হঠাৎ সড়কে থেমে যাওয়া, যত্রতত্র ঘুরে যাওয়া কিংবা ধীরগতিতে চলাচলও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তবে এই সমস্যার সমাধান শুধু থ্রি-হুইলার নিষিদ্ধ বা কমিয়ে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। কারণ এসব যানবাহনের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা জড়িত। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সাশ্রয়ী ও সহজ যাতায়াতের প্রয়োজনও রয়েছে।
এ কারণে বিকল্প ও কার্যকর গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবা প্রয়োজন। বাসের সংখ্যা বাড়ানো গেলে একদিকে যাত্রীদের সেবার মান বাড়বে, অন্যদিকে পরিবহন খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
কুষ্টিয়ার একটি সম্ভাব্য রুটের উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল হয়ে মজমপুর গেট থেকে মেহেরপুরের দিকে বর্তমানে নির্দিষ্ট সময় পরপর বাস চলাচল করে। ইজিবাইকের সংখ্যা পরিকল্পিতভাবে অনেকাংশে কমিয়ে এনে ওই রুটে বাসের সংখ্যা বাড়ানো গেলে যাত্রীদের অপেক্ষার সময় কমানো সম্ভব।
বর্তমানে যদি ১০ মিনিট পরপর বাস চলাচল করে থাকে, ভবিষ্যতে যাত্রী চাহিদা ও সড়কের সক্ষমতা বিবেচনা করে পাঁচ মিনিট পরপর বাস ছাড়ার ব্যবস্থা করা গেলে যাত্রীরা দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে বাসের চালক, হেলপার, কাউন্টার কর্মীসহ পরিবহন খাতে আরও মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।
অবশ্যই এর জন্য প্রয়োজন সুষ্ঠু পরিকল্পনা। কত সংখ্যক বাস প্রয়োজন, কোন সময়ে কতটি বাস চলবে, ভাড়া কত হবে এবং কোন কোন স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা করবে, এসব বিষয়ে পরিবহন মালিক, শ্রমিক, প্রশাসন ও যাত্রী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
একই সঙ্গে ইজিবাইক ও অটোরিকশার সঙ্গে যুক্ত চালকদের জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। পর্যায়ক্রমে থ্রি-হুইলার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান বা গণপরিবহন ব্যবস্থায় সম্পৃক্ততার সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে।
সড়ক নিরাপত্তা শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় নয়, এর সঙ্গে মানুষের জীবন, জীবিকা ও যাত্রীসেবার মান জড়িত। তাই মহাসড়কে থ্রি-হুইলারের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল বন্ধের পাশাপাশি পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব বাসসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নতুন করে ভাবতে হবে। নিরাপদ সড়ক, উন্নত যাত্রীসেবা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, এই তিনটি লক্ষ্য সামনে রেখে কুষ্টিয়ার গণপরিবহন ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো যেতে পারে।

